বিদ্যুৎহীন জীবনে নাভিশ্বাস কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারী বাসীর দ্রুত সমাধান দাবি জনসাধারণের
জিয়াউর রহমান জিয়া, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে পর দিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং-এর কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন।
প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে ফ্যান, এসি, ফ্রিজ তো দূরের কথা – মোবাইল চার্জ দেওয়াটাই যেন একরকম যুদ্ধ। ফ্রিজে রাখা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিবেশ হারিয়ে দিশেহারা এবং ফ্রিল্যান্সার ও সাংবাদিকদের পেশাগত কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অপরদিকে, ব্রয়লার খামারিরা ক্ষতির মুখে। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, ফলে মুরগির মৃত্যুহার বাড়ছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
এই সংকট শুধু ঘরোয়া জীবনে নয়, প্রভাব ফেলছে সরকারি অফিস ও স্বাস্থ্যসেবার উপরেও। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
রাজিবপুর ও রৌমারী বিদ্যুৎ সংকটের কারণ
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজিবপুর ও রৌমারী অঞ্চলে প্রতিদিন ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। শেরপুর থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ ৩৩ কেভি হওয়ার কথা থাকলেও তা কমে যাওয়ায় ভোল্টেজ স্বাভাবিক থাকে না।
জনগণের দাবি ও সম্ভাব্য সমাধান
স্থানীয় জনগণের দাবি, সীমান্তবর্তী এ দুটি উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,পৃথক গ্রিড লাইনের ব্যবস্থা, ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি।
"বিদ্যুৎ থাকলে জীবন চলে,আর না থাকলে থেমে যায় সব। এখন সময় এসেছে রাজিবপুর ও রৌমারীর মানুষের কথা ভাবার নইলে সংকট আরও গভীর হবে।"
