কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসছে চোরাই পশু। বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে নিয়ে আসা এসব গরু-মহিষ স্থানীয় হাটবাজার থেকে দেশি পশু হিসেবে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাটে। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে পশু চোরাচালান হচ্ছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পশুর হাটে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
চোরাই পশুর কারণে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় খামারিদের পশু বিক্রি হচ্ছে না। মিয়ানমারের চোরাই গরু-মহিষ সস্তায় বিক্রি হওয়ায় খামারের পালিত কোরবানির পশু লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে। মিয়ানমারের চোরাই পশুর গায়ে বিশেষ চিহ্নের সিল মারা থাকে। স্থানীয় হাটবাজারে সিল মারা পশু বিক্রি হলেও কেউ ধরছে না।
চোরাই গরু-মহিষ রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির কয়েকটি বাজারে আনার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সনদপত্র নিয়ে দেশি পশু হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা। বিজিবি ও পুলিশের অভিযানে কিছু পশু ধরা পড়লেও বেশির ভাগ পাচার হয়ে যাচ্ছে। চোরাই পশুর বেশির ভাগ রোগাক্রান্ত। সীমান্তে চোরাই পশু পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশীয় হাটবাজারে স্থানীয় গরু-মহিষে সঙ্গে চোরাই পশু বেচাবিক্রি হওয়ায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় খামারিরা।
পশু ব্যবসায়ী ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির ১৭ কিলোমিটার সীমান্তের কম্বনিয়া, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, চাকমাপাড়া, জলপাইতলী রেজু আমতলী, মগঘাট, হাতিরছড়া, ফুলতলী, ভাল্লুকখাইয়া, দোছড়িসহ ১২টি পয়েন্ট দিয়ে পশু আনা হচ্ছে। সম্প্রতি বিজিবি তৎপর হলে সিন্ডিকেট সদস্যরা পাশের আলীকদম ও লামা সীমান্ত দিয়ে পশু আনা শুরু করে বলে জানা যায়।
মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থানকারী সে দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী, সীমান্তের এপারে সন্ত্রাসী দল ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে চাঁদা দিয়ে একটি গরু মিয়ানমার সীমান্ত থেকে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেয় পাচারকারীরা। এভাবে কয়েক দফায় একটি গরুর জন্য ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় বলে এ কাজে নিয়োজিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যম কে জানান।
স্হানীয় সূত্রে জানাযায়, বিজিবি তৎপর হওয়ায় সম্প্রতি পশু চোরাচালান কিছুটা কমলেও পাচার থেমে নেই। পশুর সঙ্গে ইয়াবার চালান দেশে ঠেলে দিচ্ছে ওপারের সশস্ত্র গোষ্ঠী।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগে চোরাই পশু দেশি হিসেবে বৈধ করার জায়গা ছিল গর্জনিয়া বাজার। চোরাই পথে আনা মিয়ানমারের ৮০ শতাংশ পশু বিক্রি হতো এই বাজারে। চলতি ২০২৫ অর্থবছরে গর্জনিয়া বাজারের ইজারা মূল্য ১০ গুণ বেড়ে ২৬ কোটিতে দাঁড়ায়। আইনি জটিলতায় ওই বাজারের ইজারা সম্প্রতি স্থগিত করে রামু উপজেলা প্রশাসন। এরপর কোরবানির পশু বিক্রির জন্য পাশের কচ্ছপিয়া বাজারটি উন্মুক্ত করা হয়। সেখানেও স্থানীয় পশুর পাশাপাশি চোরাই গরু-মহিষ বিক্রি হচ্ছে। চোরাই পশু নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের চাকঢালা বাজার, রামুর কচ্ছপিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছার পর সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানেরা সনদপত্র দিয়ে দেশি পশু বানিয়ে দেন। এরপর চোরাই পশু ট্রাকে ভরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।
তথ্য সূত্রে জানাযায়,সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ ঢুকে পড়ায় স্থানীয় খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।গর্জনিয়া বাজারটি বন্ধ করায় খামারিদের কয়েক কিলোমিটার দূরে কচ্ছপিয়া বাজারে গিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। মিয়ানমারের গরু-মহিষ দেখলে চেনা যায়,শরীরে বিশেষ সিল মারা থাকে।তবে এরপরও ধরা পড়ছে না।
চোরাই পশুর কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা। হাটে যে দাম উঠছে তা দিয়ে পশু লালনপালনের খরচ উঠিয়ে আনা যাচ্ছে না।এমন অভিযোগ করেছেন খামারিরা। খামারিরা আরো বলেন,তাদের খামারে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য বেশ কিছু গরু রয়েছে। দেড় বছর ধরে তারা গরুগুলো লালনপালন করেন। কিন্তু চোরাই গরুর কারণে তিনি ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ১ লাখ টাকা দামের গরু ৭০-৭৫ হাজারের বেশি দাম বলছেন না কেউ।