ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মুনিরুল মওলাকে অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে অনাপত্তি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। আগামী ২০ জুন থেকে তার অপসারণের আদেশ কার্যকর হবে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল তাকে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছিল পরিচালনা পর্ষদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান,ইসলামী ব্যাংকের অডিট প্রতিবেদনে এমডির জালিয়াতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালনা পর্ষদ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়,যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে।
বিগত ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের দখলে নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যাংকটি থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নেয়। গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের পর মুনিরুল মওলাকে দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে অতিরিক্ত এমডি এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এমডি পদে বসানো হয়। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ব্যাংকের বেশিরভাগ পরিচালক আত্মগোপনে গেলেও মনিরুল মওলা তখনো বহাল ছিলেন। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ২২ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ খেলাপির কারণে ৬৯ হাজার ৮১৬ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে ব্যাংকটি। ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ বছরের সময় প্রার্থনা
জানা গেছে,মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণাদি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।দুদক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন,এমডি মনিরুল মওলাকে শুধু অপসারণ করলেই দায়মুক্তি পাওয়া যায় না।
দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা করি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।