বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তার বিরুদ্ধে নিজ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে বিএনপির এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তীর্ষক মন্তব্য করেন। এবার ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিসিকের বিভিন্ন ফ্যাক্টরির মালিকরা বরাবরের মতোন এখনো জিম্মি হাতেমের কাছে। বিসিকের কোনো কোম্পানির ঝুট ব্যবসা কে পাবেন তা ঠিক করে থাকেন তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম,বিসিককে তার হাতের কজায় রাখার জন্য বিসিকের একেকটা কোম্পানীর ঝুট ব্যবসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে বন্টন করেন হাতেম।যেজন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা তার প্রতি অনুগত থাকে।অন্যদিকে,ব্যবসায়িক স্বার্থে ফ্যাক্টরির মালিকরা কিছু বলার সাহস পান না। এ নিয়ে প্রায় সময় বিএনপির রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। যা নিয়ে স্বয়ং বক্তব্য রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির
সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
তিনি বলেন,গত ১৯ অক্টোবর এক জনসভায় বলেন,শেখ হাসিনার পতনে ব্যবসায়ীরা অনেক ব্যাথা পেয়েছে।পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে তারা তৎপর হয়েছে। বিএনপি নেতাদের ডেকে তারা ঝুটের ব্যাবসা দেয়,পাটের ব্যাবসা দেয়। এগুলো তাবা ভালবেসে দেয় না। আপনাকে ও আপনার দলকে ধংশ করার জন্য তারা এগুলো করছে। দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তারা চেষ্টা করছে।ব্যবসায়ীরাও সবসময় নিজেদের স্বার্থ চেনে। নারায়ণগঞ্জের যে গডফাদার ছিল তার ভাইয়ের খেতৃত্বে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চলত। আজ সেখানে কারা। ওসমান পরিবারের যারা পদলেহন, করত তারাই আজ সেখানে আছে। তারা ভাবছে কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রশাসনকে বুঝাতে চাচ্ছে এদের জন্য আমরা ব্যবসা করতে পারছি না। এদের থেকে আপনাদের বেঁচে থাকতে হবে।
গত ২৮ নভেম্বর মোহাম্মদ হাতেমকে 'ফ্যাসিস্টের দোসর' উল্লেখ করে বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আচরণ এবং অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ ও পরিচালক খুরশীদ আহমেদ তানিম পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ, আমরা লক্ষ্য করেছি যে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে এমন কিছু কর্মকাণ্ড ঘটছে যা আমাদের আমাদের সংগঠনের মূলনীতি- ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে লঙ্ঘন করছে। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া তর্যের বরাতে সংগঠনের এ দুই পরিচালক বলেন, বর্তমান সভাপতি এবং কিছু সিনিয়র বোর্ড সদস্যরা ফ্যাসিজমকে সহযোগিতা করেছে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুলাই- আগস্টের গণহত্যা ও সাধারণ ছাত্র-জনগণের ওপর নির্যাতনকারী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি তারা আগামী ৫ ডিসেম্বরে ডাকা সংগঠনের বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বাতিলের আহ্বান জানান। তারা আরও বলেন, "মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং আমাদের বিবেকের তাড়নায়, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যারা এই ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে, তাদের সঙ্গে আর কাজ করব না।"
এর আগে,বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) টানা ১৪ বছর ১ মাস সভাপতি দায়িত্বে ছিলেন সেলিম ওসমান। ২০১০ সালের ২২জুলাই প্রথমবারের মতো বিকেএমইএ সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই সময়ে সদর ও বন্দর আসনের এমপি বড় ভাই নাসিম ওসমান এবং ফতুল্লা আসনের এমপি চাচী কবরী সারোয়ার ছিলেন। সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে সদর ও বন্দর আসনে উপ-নির্বাচনে এমপি সেলিম ওসমান। এমপি ক্ষমতার সুবাধে বার বার সভাপতি হওয়ার জন্য বিকেএমএই নিয়মও পরিবর্তন করেছেন। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকার পতন হয়। পরে ২৫ আগস্ট সংগঠনটির এক জরুরি বোর্ড সভায় ১৪ বছর যাবৎ সভাপতি সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত কারণ ও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তার সভাপতি ও বোর্ড পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার স্থলে নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে সভাপতি দায়িত্ব দেন বোর্ড। তিনি এই সংগঠনের ১নং সদস্য এবং তিনি ডিসেম্বর ১৯৯৬ থেকে ২০০২ পর্যন্ত পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।