নিজস্ব প্রতিনিধি:
শামীম ওসমানের ক্যাডারদের সাথে সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিগত সরকারের শাসনামলে তিনি চলতেন অনেকটা রাজার হালে। ফতুল্লা তথা কুতুবপুরে ক্রমেই ভয়ানক উঠছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম মাদবরযেখানে বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ হামলা মামলার ভয়ে বাসায় থাকতে সাহস করত না, সেখানে বিএনপি নেতা এই মাদবর পুরো কুতুবপুর চষে বেড়াতেন। আওয়ামী ক্যাডারদের সাথে মিলেমিশে গড়ে তুলেছেন এক ত্রাসের রাজত্ব।
তার মামলা বাণিজ্য, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে অপকর্মে মুখ মুখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বললে তারা জানান, নজরুল ইসলাম মাদবর একজন মুখোশধারী ব্যক্তি। সে নামে বিএনপি হলেও তার চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অপরাধ জগতের বিচরণ সবই ছিল শামীম ওসমানের ক্যাডারদের সাথে। তিনি শুধু নামেই বিএনপি ছিলেন। মূলত তিনি ছিলেন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগী। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি বিগত সরকারের শাসনামলে আওয়ামী ক্যাডারদের সাথে মিলেমিশে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন সেই একই ব্যক্তি সরকার পতনের পর ত্যাগী বিএনপি নেতা বনে গেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এই নজরুল
ইসলাম মাদবর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কুতুবপুরে দাবরে বেড়াতো। অসহনা ও তুলনামূলক দুর্বল ব্যক্তিদের জায়গা জমি দখল করা, ত্রুটিপূর্ণ জমি কম দামে কিনে সেগুলো উচ্চ দামে বিক্রি করা, জমি ক্রয় বিক্রয় বাবদ কমিশন বাণিজ্য, বিচার সালিশের নামে চাঁদাবাজি তার নিত্য দিনের কাজ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজন জানান,আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রায় দেড় দশক ধরে কথিত বিএনপি নেতা এই নজরুল ইসলাম মাদবর আওয়ামী ক্যাডারদের সাথে মিলেমিশে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো। তার ভয়ে তটস্থ থাকতে স্থানীয়রা। কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না। শামীম ওসমানের ক্যাডারদের সাথে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতো কথিত এই বিএনপি নেতা।
এতে করে প্রকৃত বিএনপি নেতা ও কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তারা বলছেন যে ব্যক্তি দেড় বছর ধরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে মিলেমিশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন সে এখন বিএনপির নাম নিলে সাধারণ মানুষের বিএনপির প্রতি আস্থা থাকবে না।
এলাকাবাসী আরো জানান, নজরুল ইসলাম মাদবরের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে সে শেল্টার দিচ্ছে একাধিক কিশোরগ্যাং বাহিনী। এই কিশোর গ্যাং বাহিনী পান থেকে চুন খসলেই এলাকায় তান্ডব চালায়। স্থানীয়রা জানান, এই মাদবর কে যদি বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা না হয় তাহলে মানুষ বিএনপি থেকে আস্থা হারাবে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন গোটা কুতুবপুরবাসী।