ঝিকরগাছা :
যশোরের ঝিকরগাছায় আম বাগান নষ্ট করার পরও জীবন নাশের হুমকি দেওয়ায় থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেছেন আঃ রাজ্জাক (৫০) নামের এক অসহায় কৃষক। তিনি বাঁকড়া গ্রামের আবদার আলী মোড়লের ছেলে। সে জিডিতে উপজেলার মাটিকুমরা গ্রামের আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৭) ও শার্শা উপজেলার বড়বাড়ীয়া গ্রামের আমির ডাক্তারের ছেলে আমিরুল ইসলাম লাল্টু (৪৯) কে বিবাদী করেছেন।
থানার সাধারণ ডায়েরী (জিডি) সূত্রে জানা যায়, বাদী একজন কৃষক। সে মাটিকুমরা গ্রামের মুজিবার রহমান গাজী, হবিবার রহমান গাজী, আব্দুর রহমান গাজীদের পাঁচ বিঘা জমি দুই বছর চুক্তিতে লিচ নিয়ে ১৮বছর যাবৎ আমের চাষ করেন। এমতবস্থায় গত ২৭এপ্রিল রাত অনু: ১১টার সময় ২নং বিবাদীর নিউ টাটা ব্রিকস্ নামে ইটের ভাটার গরম হাওয়া ছাড়ার কারনে বাদীর উক্ত পাঁচ বিঘা আমের বাগান পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বের মোট ৬৪ টি গাছের আম ঝরে যায়। বাদী ঘটনাটি স্থায়ীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই। পরবর্তীতে গত ০৪ মে রাত অনু: ১০টা ১৬মিনিটের সময় বিবাদীর নাম্বার দিয়ে বাদীর নম্বারে ফোন দিয়ে বাদীকে বলে যে তোর আম গাছের ক্ষতি হয়েছে তা বিভিন্ন লোকজনের নিকট বলাবলি করছিস কোন। বাদীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের উসকানি মূলক কথাবার্তা সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। তার কথায় প্রতিবাদ সহ গালিগালাজ করিতে নিষেধ করলে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমাকি ধামকি সহ জীবন নাশের হুমকি প্রদান করিয়া ফোন কেটে দেয়। অতঃপর বিবাদীদ্বয় পরবর্তীতে সময় সুযোগ পাইলে বাদীকে খুন জখম করিবে মর্মে হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমতাবস্থায় বাদী চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিবাদীদ্বয় যে কোন সময় বাদী সহ বাদীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুন জখমসহ বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করিতে পারে মর্মে আমি আশঙ্কাবোধ করে এমতাবস্থায় বিষয়টি সাধারণ ডায়রী করেছেন। জিডি নং ১৮৬, তারিখ ০৫/০৫/২০২৪ইং।
থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূইয়া বলেন, আঃ রাজ্জাক নামের এক কৃষক একটি সাধারণ ডায়রী করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝিকরগাছায় আবারও যোগ হলো ০৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যান্ত্রিক যুগে প্রবেশ করার সাথে সাথে চলতি বোরো মৌসুমে নমুনা শস্য কর্তনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ১ম পর্যায়ে ৬টি, ২য় পর্যায়ে আবারও ৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন প্রদান করা হয়েছে। এ কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের বাজারমূল্য ৩২লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারিভাবে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বলা যায় প্রায় ৫০%ভূর্তুকি সুবিধা পাচ্ছেন। আর বাকি টাকা কৃষকদের নিজস্ব তহবিল থেকে দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। এটা দিয়ে কৃষক খুব সহজে অল্প সময়ে তার ধান, গম ও ভুট্টা কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে পারবে।
রবিবার বিকাল ৫টার সময় উপজেলা পরিষদের সামনে ৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণ চন্দ্র পাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সরকারকে আমাদের ধন্যবাদ জানানো উচিৎ। কারণ সরকার দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে বিভিন্ন সময়ে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ডিজিটাল দেশে রূপান্তর করছেন। এছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রে অনেক ভূর্তুকী দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে সহযোগিতা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন। এ মেশিন ঘণ্টায় ১একর জমির ধান কাটতে সক্ষম।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুস সমাদ, উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মফিজুর রহমান, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল নয়ন, ভুক্তভোগী চাষী গদখালী ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের মনিরুজ্জামান, বারবাকপুর গ্রামের আজিজুর রহমান (রহিম), নাভারণ ইউনিয়নের গুননগর গ্রামের আকতার, মাগুরা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মান্নান সহ আরো অনেকে।