নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- দৈনিক বিজনেস প্রতিদিন।
৪ এপ্রিল বিকেল চারটায় সোনারগাঁ ঈশাখা রেস্টুরেন্টে সোনারগাঁ -৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সাথে ইফতার অনুষঠান ও মতবিনিময় সভায় ,তিনি তার আন্তরিক ও দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বিগত বছরগুলোতে সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে তিনি তার যে অবদানগুলো রেখে গেছেন এবং যে প্রকল্পগুলো প্রকিয়াধীন ছিল সেগুলো নিয়েই সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ পর্যায়ে তিনি বলেন, তিনি সোনারগাঁ এর সকল জনগনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিগত ১০ বছরে তার পাশে থাকার জন্য। তিনি বলেন,একজন মুসলমান হিসেবে আমি বিস্বাশ করি সব কিছুর মালিক আল্লাহ। আল্লাহ পাকের হুকুম ছাড়া কেউ জনপ্রতিনিদিত্তের দায়িত্ত পালন করতে পারেনা ।সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি সবসময় খুজেঁ বেরিয়েছেন মহান আল্লাহ কেন তাকে এই দায়িত্ত দিয়েছেন। তিনি তার বিগত ১০ বছরের সারক লিপি পেশ করেন। তিনি বলেন,
"সোনারগাঁবাসীর উদ্দেশ্য আমার কিছু কথা"
প্রাণ প্রিয় সোনারগাঁবাসী আসসালামু আলাইকুম ।দয়াময় আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে ভালো ও সুস্থ আছেন নিশ্চয়ই। আমি একজন মুসলমান হিসেবে বিশ্বাস করি সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। আল্লাহর হুকুম ব্যতিত কিছুই হয় না। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি নির্বাচিত হওয়ার পর খুঁজে বেড়িয়েছি আল্লাহ পাঁক আমাকে এত বড় দায়িত্ব কেন দিলেন? আমি খুঁজে এটুকু বুঝেছি সোনারগাঁয়ের মানুষগুলো আল্লাহর বান্দা, প্রিয় নবীজির উম্মত। সোনারগাঁয়ের মানুষগুলোকে সুখে রাখার জন্য আল্লাহ পাক আমাকে এই দায়িত্বটা দিয়েছেন। আমার দীর্ঘদিনের রাজনীতির চলার পথে জনগণের সেবক হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গণে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছি। তাই আমি ১০টি বছর ধর্ম, বর্ণ, দল মত এর উর্ধ্বে থেকে সোনারগাঁয়ের ভালো মানুষদের আমার কর্ম ও ভালোবাসার মাঝে সকলকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছি এবং তাদের সাথে নিয়ে সোনারগাঁয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন ও সোনারগাঁবাসীকে শান্তিতে রাখতে পেরেছি বলে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। বিগত ১০টি বছর সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালনকালে সোনারগাঁয়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবি, মসজিদ-মাদ্রাসার ঈমাম, ওলামায়কেরামগণ, কোমলমতি আমার প্রিয় ভাগিনা ভাগনি ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিক, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্রীড়ামোদী সংগঠন, করোনাযোদ্ধা, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে, সরকারি কর্মচারী, দর্জি, গাড়ী চালক, হকারস, দিনমজুর, (রিকশা, ভ্যান, সিএজি চালক), পরিবহন শ্রমিক, দোকানদার শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি বলে আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আল্লাহর রহমতে আমার উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব ফরজ হিসেবে গ্রহণ করে প্রিয় সোনারগাঁবাসীর সুবিধা-অসুবিধা, দুঃখ-কষ্টগুলো খুঁজে বেড়িয়েছি। মাটি ও মানুষের সেবক হিসেবে সোনারগাঁয়ের সকল মানুষের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি আর সুখ-দুঃখ ভাগাভাগির একটি অনন্য পরিবেশ গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। সকল লোভ লালসা ত্যাগ করে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে সোনারগাঁবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। প্রাকৃতিক-অপ্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সোনারগাঁবাসীর মুক্তির জন্য বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁর সাহায্য কামনা করে সোনারগাঁবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে নিরলসভাবে কাজ করেছি।
প্রিয় সাংবাদিকগণ ঃ
গত ১০ বছরে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় সোনারগাঁবাসীদের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ যুগিয়েছেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন আমার সাথে আপনাদের যে আন্তরিকতার সেতুবন্ধন ছিল আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক অঙ্গনের শেষ সময় পর্যন্ত আপনাদের জন্য আমার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্দ্য বিষয় হচ্ছে আমি গত ১০ বছর সোনারগাঁবাসীর জন্য কি কাজ করেছি তার একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরা এবং যেসব কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল বা শুরু করেও শেষ করতে পারিনি তারই একটি চিত্র আপনাদের কাছে উপস্থাপন করা।
প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দ,
"১০ বছরে যেসব কাজ সম্পন্ন করেছিলাম"
"করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ ৩টি মাস নিজের জীবন বাজি রেখে সোনারগাঁয়ের প্রতিটি অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে গভীর রাত পর্যন্ত খাবার পৌঁছে দিয়েছিলাম। আমার একমাত্র কন্যা সন্তান যাকে বুকে জরিয়ে আদর না করলে ঘুমাত না, আমি যখন অনেক রাতে বাড়ি ফিরতাম তখন দূর থেকে শুধু হাত নাড়িয়ে তাকে আদর করতাম তবুও সোনারগাঁবাসীর কাছ থেকে দূরে সরে যাইনি। সোনারগাঁয়ে সর্বপ্রথম আমি ঘোষণা করেছিলাম কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। তারই ধারাবাহিকতায় করোনা মহামারিকালীন সময়ে আমি, আমার নেতাকর্মী ও আমার গঠিত করোনাযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে ৪০ হাজার পরিবারের মাঝে খাবার, মাকস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাবস, ব্লিচিং পাউডার, পাঁচ শতাধিক স্প্রে মেশিন, মধ্য বিত্তদের জন্য হট লাইন সেবার মাধ্যমে খাবার সরবারাহ ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য ৪টি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিয়েছিলাম। করোনা আক্রান্ত রোগিদের সরকারিভাবে লকডাউন করে দেওয়া করোনা আক্রান্ত পরিবার ও আশেপাশের লকডাউন করে দেওয়া সকল বাড়িতে খাবার ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌঁছে দিয়েছিলাম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরে আপনজনও লাশের সামনে যেতে ভয় পেত। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমার প্রিয় সোনারগাঁয়ের ৫৮টি মানুষ মারা যায়। আমি ও আমার গঠিত সেচ্ছাসেবী করোনাযোদ্ধা টিমের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিদের ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক দাফন কাফন করার যে তৌফিক আল্লাহ আমাকে দিয়েছে তার জন্য রাববুল আল- আমিনের এর কাছে শুকরিয়া। করোনাকালীন সময়ে কৃষকদের ধান কাটার জন্য কমভাইন্ড হারভেস্ট মেশিন ভাড়া করে দিয়েছিলাম ও আমার নেতাকর্মীরা দরিদ্র কৃষকদের ধান কাটার কাজে সহযোগিতা করেছিল।
০১। ব্রিজঃ আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আমার প্রতিশ্রুতি ছিল সোনারগাঁয়ে কোন বাশের সাকোঁ থাকবে না। তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার পর থেকে যে সেতুগুলো মানুষের স্বপ্ন ছিল আমি তা বাস্তবায়ন করেছি বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। গত ১০ বছরে বহু বাশের সাঁকোর স্থলে নির্মিত হয়েছে ব্রিজ। বহুল কাঙ্খিত, দীর্ঘদিনের মানুষের স্বপ্নের ঐতিহাসিক হরিহরদী, মান্দারপাড়া, রতনপুর, ভাটিবন্দর, চৌরাপাড়া, কাজীপাড়া, প্রেমের বাজার, হামছাদী, আনন্দ বাজার, আমবাগ, বাংলা বাজার ও পঞ্চমীঘাট এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে সেতু নির্মাণসহ সোনারগাঁয়ে প্রায় ছোট বড় ৮০টি সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি।
০২। রাস্তাঃ আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে একাকী সিএনজি করে ঘুরে ঘুরে দেখেছি সোনারগাঁয়ের রাস্তাগুলো ছিল খুবই ভাঙ্গা ও অপ্রশস্ত এবং নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ করা খুব প্রয়োজন ছিল। গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করেছি। আমি নিজস্ব ও সরকারি অর্থায়নে বরাব আদমপুর, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ ওয়ার্ড ভিত্তিক সকল রাস্তা প্রশস্ত করেছিলাম। তাছাড়া এলজিইডির জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু রাস্তা ইতিমধ্য ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্ধোধন করেছি।
রাস্তাগুলো হলোঃ- (ক) রতন মার্কেট হতে ওয়াপদা বেড়ীবাধ ভায়া দবির উদ্দিন ভূইয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পাকা করন এর কাজ চলমান। (খ) জৈনপুর হতে ছয়হিস্যা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ হইতে রতনপুর হয়ে ভবনাথপুর পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করন সহ পাকা করন এর কাজ চলমান। (গ) শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ হতে বটতলা হয়ে মোগরাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তসহ পাকা করা হয়েছে। (ঘ) বারদী আশ্রম সংলগ্ন ব্রিজ হইতে বিষ্ণাদী, ধন্দী বাজার হয়ে মাঝের চর স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তসহ পাকা করা হয়েছে। (ঙ) সাত ভাইয়াপাড়া পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ হতে বৈদ্যের বাজার বটতলা পর্যন্ত রাস্তা