নিউজ ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তাারকে কেন্দ্র করে পারভেজ হত্যাকান্ডের ৪ দিন পর মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিহতের ছোট ভাই মোঃ হৃদয় মিয়া বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় জসীম উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পশ্চিম কান্দারগাঁও গ্রামে মোতালেব মিয়ার ছেলে পারভেজ নিহত হন। এসময় উভয় পক্ষের টেঁটবিদ্ধসহ ৮/১০ জন আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও গ্রামের জাকির হোসেন ও জসীম উদ্দীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারে দ্বন্ধ চলছিল। গত শুক্রবার জুমা নামাজের পর সোনারগাঁ রিজোর্ট সিটির মধ্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, রামদা, লাঠি সোটা নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় জাকির পক্ষের পারভেজ, রিটন, হৃদয়, রুহুল আমিন, আক্তার হোসেন, মোতালেব এবং জসীম উদ্দিন পক্ষের দেলোয়ার, জামান, কামাল, মহসিন, শামীম ও আলম সরকার আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পারভেজ হোসেন মারা যান। পারভেজ হত্যাকান্ডের ৪দিন পর গত মঙ্গলবার রাতে এ মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে বিকেলে পারভেজের লাশের জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানী তথ্য জানা যায়, গত ১০ বছরে এ নিয়ে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও গ্রামে ৪ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন এখনো পঙ্গু অবস্থায় হুইল চেয়ারে বসে জীবন কাটাচ্ছে। সব ঘটনাগুলো ঘটেছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। আর এ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩ জনই হচ্ছে জাকির সমর্থক। ২০১২ সালে যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী রিপন মিয়াকে হত্যা করে সন্ত্রাসী জাকির বাহিনী। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অন্যান্য হত্যাকান্ডগুলো। সবগুলো হত্যাকান্ড জাকিরের কারনেই ঘটেছে বলেও জানান এলাকাবাসী। তাদের মৃত্যুতে লাভবান হয়েছেন স্থানীয় পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের এই নেতা জাকির হোসেন এমনটাও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যখনই দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় তখনই বাদীদের সে তার ছত্রছায়ায় রাখে। এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে নামে-বেনামে কিংবা পূর্ব শত্রুতা থাকলেই তাদের মামলায় এজাহার ভুক্ত করে হয়রানীসহ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে দেয়। যেনো সে একচ্ছত্র ভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এমনকি যারা সংঘর্ষের দিন ঘটনাস্থলে ও এলাকায় উপস্থিত ছিলো না তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করে অর্থ বানিজ্য করে বলেও জানা গেছে। গত শুক্রবার পারভেজ হত্যাকান্ডের মামলায় আসামী করা হয়েছে ২০১২ সালে নিহত রিপন মিয়ার ১৩ বছরের ছেলেসহ ছেলের মা ও ১৪ বছর বয়সী ভাগিনাকেও।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মহসিন বলেন, পারভেজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা গ্রহন করা হয়েছে। অপরাধ না করে মামলার এজহারে অন্তর্ভূক্ত হলে তদন্ত করে বাদ দেওয়া হবে। এজহারভূক্ত আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।