নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- দৈনিক বিজনেস প্রতিদিন।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) জালকুড়ির নম পার্কের নির্বাচনোত্তর পুরর্মিলনী সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ,কে,এম,এমপি শামীম ওসমান বলেন,
আমাদের কাছে নির্বাচনের রেসাল্ট শীট এসেছে। আমার নিম্ন ২৫-৩০ হাজার ভোট নষ্ট করা হয়েছে। ভোটার এসেছে কিন্তু ভোট দিতে দেয়া হয় নি।এখানে সবাই জড়িত না তবে কিছু জড়িত। নির্বাচনের দিন আমি কোথাও যাই নি। ৯৬ নির্বাচনেও কোথাও যাই নাই আমি আমার বাবা-মার কবরস্থানে ছিলাম। হাদিসে শুনেছি এক বসায় যদি ৪১ বার দোয়া ইয়াসিন খতম দিলে কবর আযাব মাফ হয়। আমি ১২ টায় বসেছি, ৩টায় উঠেছি। আমার বাসায় সাংবাদিক গিয়েছিলেন কিন্তু তারা কেউ বিরক্ত করেন নাই। নির্ভাচনের দিন ভোট দিয়ে চলে এসেছি। এবার রেজাল্ট নিয়ে এনালইসিস করেছি। কারণ আমি নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করি। আমি আর আগামীতে নির্বাচন করবো না।
নেত্রী দেশে আসার পর বাসন্দিকে খুঁজে দেখতে গিয়েছিলাম। নেন্ত্রীর মা-বাবা ভাইয়ের মৃত্যুতে দেশের কোন উন্নতি হয়েছে কিনা সেটা দেখতে। বাসন্তি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। সে গায় জাল পেচিয়ে শুয়ে ছিলো আর তার ছবি তুলে বলা হয়েছে বাংলাদেশের মহিলাদের গায়ে কাপড় নেই। এই ধরণের খেলা হবে সামনে। আপনারা মানসিক প্রস্তুতি নেন।৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রবল দুর্বিক্ষ দেখা দিয়েছিল।ভৌগলিকভাবে অনেক কিছু হচ্ছে। নেত্রীর উপর আমাদের ভরসা আছে। আল্লাহ যদি ধৈর্য, ভালোবাসা যদি কাউকে দিয়ে থাকেন তাহলে তিনি হলেন শেখ হাসিনা।২১ বার তাকে মারতে চেয়েছিলো পারে নাই। তার উপর আল্লার রহমতের চাদর আছে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের সাথে সয়তান আছে। নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন। উনাকে আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য দরকার। নির্বাচনের আগে আমি কোন সরকারি অফিসারের সাথে নির্বাচন নিয়ে কথা বলি নাই। ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন করবো বলেছি।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ আমরা বলার পর তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিছু জায়গায় পুলিশ, কিছু জায়গায় প্রিজাইডিং অফিসার বললো ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। উনাদের সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো ভোট ৪১-৪২ হবে কিন্তু ৩২ হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় যেমন বক্তাবলীতে প্রচারনায় তেমন যেতে পারি নাই। কিন্তু বক্তাবলী চমৎকার রেসাল্ট করেছে। ৫০ ভাগ ভোট কাস্ট করেছে। ফতুল্লায়, কুতুবপুর, কাশিপুর ভোট কাস্টিং করা আছে।
এমপি শামীম ওসমান বলেন, ধাক্কা ধাক্কি করে মঞ্চে উঠলে নেতা হওয়া যায় না। আমি সহজে মঞ্চে উঠি না। এই সভার আয়োজন যে করেছে তারা ২ জন নিচে দাড়িয়ে আছে। তাদের থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। আমরা সবাই কর্মী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা প্রচলিত হই। আমাদর পর নতুন প্রজন্ম যখন আসবে তারাও যেন আমাদের মতো নিজেকে গড়ে নিতে পারে। আমি অবাক দৃষ্টিতে দেখেছি, কাশিপুরে সাইফুল্লাহ বাদল ভাই অসুস্থ থাকার পরও আমা সাথে প্রতিটা মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, বাসায় চলে যান। তাও উনি যাননি,কষ্ট করে প্রচারণায় ছিলেন। আমাকে বিদায় দিয়ে তারপর তিনি বাসায় গেছেন। মানুষ আইসিওতে তখনি যায় যখন জীবন সংকটে থাকে। আমার মতো কর্মীর জন্য নির্বাচনের দিন পর্যন্ত উনি হাসপাতালে যান নাই। নির্বাচন শেষে উনি আইসিইউতে ভর্তী হয়েছেন। আমি খবর পেয়েছি। হাসপাতালের কর্তপক্ষে সাথে কথা বলেছি যে এটা আমার আপন ভাইয়ের চাইতে কম না। যা লাগে সব কিছু করেন। আব্বা-আম্মার মৃত্যুর পর হাসপাতালের কেউকে দেখতে যাই না। আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন সময় যখন আমার আপন কেউ হাসপাতালে ভর্থী থাকেন। কারন তখন দোয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না। সবাই সাইফুল্লা বাদলের জন্য, খালেদ কাজল সবার জন্য দোয়া করবেন। আমি প্রতি দিন তাদের জন্য আট রাকাত নামায পড়ছি। আমরা সবাই একটা পরিবার
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন,ফতুল্লা ও বক্তাবলী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম.শওকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম,শ্রমিক লীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির, জেলা কৃষক লীগের আহবায়ক ও সাবেক পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন,নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদল,সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবগীলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর ড.শিরিন বেগম,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল,সহ অননানন্য নেতৃবৃন্দগন।