জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃদৈনিক বিজনেস প্রতিদিন
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর খালিশপুরস্থ খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত একটি ভবন থেকে ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এসময় জবাই করা কুকুরের মাংস জব্দ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন কিশোর। তারা সবাই ওই ইনস্টিটিউটের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।
খাসির বিরিয়ানির প্রচারণার আড়ালে কুকুরের মাংসের বিরিয়ানির এ খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি খুলনা মহানগরীতে ভাইরালে পরিণত হয়। বিশেষ করে ইতোপূর্বে যারা ভ্রাম্যমাণ এসব বিক্রেতার কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে বিরিয়ানি কিনে খেয়েছেন তারা ধিক্কার জানান অপরাধীদের। কুকুরের মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি হতো এমন খবর সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর চলছে তুমুল আলোচনা ও নিন্দার ঝড়।
গত প্রায় দেড় থেকে দু'মাস ধরে গরু-খাসির বিরিয়ানির নাম করে খুলনা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইকে করে ভ্রাম্যমাণ কুকুরের বিরিয়ানি বিক্রি চলছে।
মাইকিং করে মাত্র ৩০ টাকা প্যাকেট দরে বিক্রি হয় কথিত মুখরোচক এ বিরিয়ানি। মাংসের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প মূল্যের এ বিরিয়ানির খবরে উপচে পড়েন ক্রেতারা, লুফে নেন প্রতিযোগিতা করে। মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বিরিয়ানির ডেক।
আটককৃতরা জানিয়েছেন তারা প্রায় দেড়-দুই মাস ধরে কুকুরের মাংস দিয়ে বিরিয়ানির ব্যবসা করছিলো।
আটককৃতরা হলেন- চক্রের মূলহোতা নগরীর খালিশপুরস্থ ডলার হাউজ মোড় এলাকার লিংকন হাওলাদারের ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তাজ (১৬), খালিশপুর বঙ্গবাসী মোড় এলাকার নর্থ জোন-২৩ এর হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আবু সাইদ (৩৭), ২নং নেভিগেট এলাকার কুতুব আলীর ছেলে মো. সিয়াম (১৬), চরের হাট এলাকার শোভন সরদারের ছেলে প্রেম সরদার (১৬)।
কুকুরের মাংসের ক্রেতা ও ভ্রাম্যমাণ বিরিয়ানি বিক্রি করতো আবু সাঈদ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরমান, উৎস, রনি ও ফজল এখনও পলাতক রয়েছে।
এদিকে, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রাণী কল্যাণ আইনের ২০১৯-এর ৭ ধারা মোতাবেক আটককৃতদের আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহানগরীর খালিশপুর, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ৩০, ৪০ ও ৬০ টাকায় প্যাকেট বিরিয়ানি বিক্রি করতো এ চক্রটি। এছাড়া তারা অনেক ছোট ছোট হোটেল-রেস্টুরেন্টে এ বিরিয়ানি বিক্রি করতো। কম দামে এসব হোটেলে পেট ভরে খেতেন অগণিত মানুষ। নগরবাসী অনেকের পছন্দের খাবার বিরিয়ানি।
কিন্তু গরু-খাসির এই বিরিয়ানি এত কম দামে বিক্রি হয় কীভাবে তা এই চক্রটি আটক হওয়ার পর জানতে পেরে আঁতকে ওঠেন সবাই। গরু-খাসির বিরিয়ানি বলে যা বিক্রি হচ্ছে,তা রান্না হতো কুকুরের মাংস দিয়ে।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, আটককৃতরা ভ্রাম্যমাণ ও ছোট ছোট হোটেলে কুকুরের মাংসের বিরিয়ানি সরবরাহ করতো। সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ কম খরচে এসব হোটেল থেকে বিরিয়ানি খেত। সম্প্রতি নগরীতে ইজিবাইকে করে খালিশপুর এলাকার আবু সাঈদ ৩০ টাকা প্যাকেট মূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিরিয়ানি বিক্রি করছিল। তার সূত্র ধরেই কুকুরের মাংস বিক্রি চক্রকে আটক করা হয়। বিরিয়ানি বিক্রেতা বঙ্গবাসীর আবু সাঈদকেও আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাদের পরিবারের কেউ থানায় আসেনি। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।