নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের একদফা দাবিতে ২৮ অক্টোবরের বিএনপির মহাসমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতিকে প্রধানমন্ত্রী ভাল চোখে দেখেননি মন্তব্য করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এত মানুষের সমাগম দেখে তার অন্তরজ্বালা বাড়িয়েছে। এজন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে গুলি, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সাংবাদিকসহ বিএনপি নেতাদের হত্যাসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করান।
বুধবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়ালি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গতকালের প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্যে প্রমাণিত হলো, তিনি নানা ধরনের ফন্দি করে আবারও ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করতে চান। তিনি রাজনৈতিক সমঝোতা, সম্প্রীতি এবং অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী নন। তাই কেউ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দাবি করলেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।
রিজভী বলেন, বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশি বেপরোয়া ও নারকীয় তাণ্ডবে লিপ্ত হয়েছে। তারা মরণঘাতি অভিযানে আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠেছে।
‘২৮, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচিতে ঢাকাসহ সারাদেশে তারা হত্যার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। গতকালের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিবেকহীন পুলিশ বাহিনী বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালাতে আরও বেশী উৎসাহী হয়ে উঠেছে। ২৮, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর আওয়ামী পুলিশ রক্তের যে হোলিখেলা খেলেছে, সেটি নজিরবিহীন ও পৈশাচিক ঘটনা।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যেসব কথা বলেছেন, তাতে সত্যের লেশমাত্র নেই। সারা জাতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে তার সেসব কথা পর্যবেক্ষণ করেছে। সেটাকে তিনি পরিবর্তন করবেন কীভাবে? জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন বলেছে, মুখোশপরা হেলমেটধারী ব্যক্তিরা সরকারের লোক। এভাবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সংস্থারা সরকারের পরিকল্পিত আক্রমণ সম্পর্কে এখন ওয়াকিবহাল।
জেলখানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের দুর্দশা এখন চরমে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির যেসব নেতা, যারা একসময় মন্ত্রী-এমপি ছিলেন; তাদেরও ডিভিশন দেওয়া হচ্ছে না। কারাগারে বিএনপি নেতাদের দিনের বেলায়ও সেলের ভেতরে আটকে রাখা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর হয়রানির মধ্যে বিএনপি নেতারা দিন কাটাচ্ছেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরেও জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাগ্যের লিখন হয়ে গেছে। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তারের পর আজকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এটা সরাসরি মির্জা আব্বাসের ওপর সরকারি নিপীড়ন। কারাগারে অসুস্থ বিএনপি নেতাদের হাসপাতালের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর কারা কর্তৃপক্ষের নিপীড়ন ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাচ্ছি।