মার্কিন পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশ মেনে কার্যকর রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রদান এবং অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছাড়তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি ‘এবি পার্টি’।
সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের মাধ্যমে সরকার শ্রেণী-বৈষম্য উসকে দিয়ে নিজেদের বিপজ্জনক পতনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করে দলটি।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আজ জাতীয় জীবনের একটি সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তারা কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়। যখন গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন, তখন সরকার একগুঁয়েমি করে হুংকার দিচ্ছেন।
আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যারা ভূমিকা রাখছে তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই। নির্বাচন কমিশন এবি পার্টিকে নিবন্ধন না দিয়ে ‘দল দাস’ কমিশনের পরিচয় দিয়েছে বলেন তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেন, এই দলান্ধ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনোভাবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছা বাস্তবায়নের এজেন্টে পরিণত হয়েছে। সরকারের পদত্যাগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করারও দাবি জানান তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অতীতের স্বৈরাচারদের তুলনায় বর্তমান সরকার বহুগুণ বেশি ভুল করছে। একের পর এক ভুলের কারণে তাদের চড়া মাশুল গুনতে হবে।
তিনি বলেন, মার্কিন পর্যবেক্ষকগণ সবার সাথে কথা বলেছে। এবি পার্টিসহ সক্রিয় কার্যকর দলগুলোকে নিবন্ধন না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলকেও ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত করেছে। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যে ৫ দফা সুপারিশ দিয়েছে তা খুবই যুক্তিযুক্ত।
তিনি মার্কিন পর্যবেক্ষকদের সুপারিশ মেনে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন দেওয়ার এবং অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছাড়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ব্রিফিং শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবি পার্টির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক।
উপস্থিত ছিলেন, দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক বিএম নাজমুল হক, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুব পার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, সহকারী সদস্যসচিব এম আমজাদ খান, সরকারী সদস্যসচিব অ্যাড. সাইদ নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, গাজী নাসির, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব ফিরোজ কবির, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্য সচিব সফিউল বাসার, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম নুর, যুবপার্টি মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, যুবপার্টি মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব শীলা আক্তারসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।