স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের টাকা ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করা হবে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয় এবং পরে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মাত্র ১৯ দিনে বিচার সম্পন্ন, নজিরবিহীন গতি
গত ১৯ মে সংঘটিত এই ভয়াবহ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।
১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে একই দিনে ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা। পরবর্তীতে ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছরের রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন রামিসার মা। এক পর্যায়ে সোহেল রানার ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে আলোচিত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হলো।