এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নে সরকারি খাসজমি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তাঁর মধ্যস্থতায় বিবদমান পক্ষগুলোকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক মীমাংসা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,সরল ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলবর্তী চরাঞ্চলে সরকারি খাসজমি,লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘেরের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষ,গোলাগুলি,হতাহতের ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
গত কয়েক বছরে সংঘটিত একাধিক সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন। বিশেষ করে পশ্চিম সরল এলাকায় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ,পথচারী,শিশু ও বয়স্কসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সমুদ্র চর এলাকায় সরকারি খাসজমিতে অবস্থিত লবণ মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আরেকটি বড় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন। ওই সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়।
দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গত রোববার সন্ধ্যায় বাঁশখালী জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব ও মধ্যস্থতা করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।
বৈঠকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক,পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন,সরল ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান ছাড়া এলাকায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন,শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে উভয় পক্ষকে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। প্রশাসনের সহায়তায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরবর্তী ধাপে সমঝোতা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন,রাজনৈতিক নেতৃত্ব,প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত এই উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং উপকূলীয় সরল ইউনিয়নে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি ফিরে আসবে।