প্রতিবেদক- মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২৪ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করেছে।
গত সোমবার (১৮ মে) এক সাক্ষাৎকারে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে জেলার সব সরকারি দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ সকল অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এ লক্ষ্যে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না,বলেছেন জেলা প্রশাসক।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসক জানান, গরুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ এবং সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার মনিটরিং টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি অফিসে জনগণের হয়রানি কমাতে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিসি রায়হান কবির। বিশেষ করে ভূমি অফিসে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নামজারি, খারিজ ও মিউটেশনসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দালালমুক্ত ভূমি অফিস গঠনে নিয়মিত মনিটরিং চলছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও জেলা প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। ঈদকে সামনে রেখে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জরুরি সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নকল ওষুধ ও অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ বিক্রি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর ও মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ পার্কিং, রাস্তা দখল ও অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ঈদের আগে ও পরে নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের এসব কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।