নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের আইনি জটিলতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র দালাল মারফত সুবিধা,না দেওয়ায় একটি নামজারির আবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান,তিনি গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন ফাইল জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ফাইলটি সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল (এসি ল্যান্ড অফিস)-এ পাঠানোর কথা থাকলেও কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও তা পাঠানো হয়নি।
তিনি আরও জানান,গত ৯ মে তিনি সরাসরি গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিলে দেখতে পান তার ফাইল এখনো অফিসেই পড়ে আছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করলে তিনি আশ্বাস দেন,আজই ফাইল পাঠানো হবে।
এমন আশ্বাসে ভরসা করে ফিরে এলেও ১৪ মে পর্যন্ত ফাইলটি সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে করে চরম ভোগান্তি ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ,আমি একজন সাংবাদিক হওয়া সত্ত্বেও যদি ঘুষ না দেওয়ার কারণে এভাবে হয়রানির শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষ কী অবস্থার মধ্যে পড়ে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,একই নামজারির বিষয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ এসি ল্যান্ড অফিসে অকারণে তাকে ঘুরানো হচ্ছে। বিশেষ করে এসি ল্যান্ড দেবযানী করের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিলম্ব ও দালাল নির্ভর প্রক্রিয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তার ভাষ্য,ফাইলে কোনো সমস্যা নেই। তারপরও শুধু দালাল মারফত টাকা না দেওয়ায় আমাকে মাসের পর মাস ঘুরানো হচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়,বরং সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের প্রতি চরম অবহেলা ও হয়রানির শামিল।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি রাজস্ব) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সচেতন মহল বলছে,ভূমি অফিসে দালালচক্র ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। ডিজিটাল সেবা চালুর পরও যদি সেবাপ্রার্থীদের এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়,তবে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যায়।
স্থানীয়দের দাবি,বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত,যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অনিয়ম থেকে মুক্তি পায়।