স্টাফ রিপোর্টঃ
রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকায় দিন দিন কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও সচেতন মহলের দাবি,বিভিন্ন অলিগলিতে নিয়মিত কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া,মাদক কারবারিদের আনাগোনা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য আড্ডার কারণে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার থানায় অভিযোগ ও তথ্য দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব। এতে করে অপরাধীদের সাহস আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্র জানায়,রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন মহল থেকেও অপরাধ দমনের আহ্বান জানানো হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা অপরাধ দমনে আন্তরিক থাকলেও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও চাপের কারণে অনেক সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন,আমরাও চাই সমাজ থেকে মাদক,সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূল হোক। সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকুক।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খিলগাঁও থানাধীন আদর্শবাগ এলাকার রজনীগন্ধা রোডে সাংবাদিক পাপ্পু চৌধুরীর অফিস ও বাসায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে,ওই ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালালেও থানায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ,থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও অনেক অভিযোগ দীর্ঘদিন নিষ্পত্তিহীন পড়ে থাকে। এতে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, অপরাধ দমনে জবাবদিহিতা,সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা এবং নিয়মিত অভিযান জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং,মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন,ভবিষ্যতে খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্রের বিস্তারিত তথ্য ও তালিকা প্রকাশ করা হবে।