নিজস্ব প্রতিবেদক |
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভয়ংকর‘হানি ট্র্যাপ’চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ উঠেছে,প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্জন স্থানে ডেকে এনে জিম্মি করে রাখা হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ঘটনাটি ঘটে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার নিমাইকাশারী বাজার মসজিদ রোডস্থ ভূঁইয়া আব্দুস সালাম টাওয়ারে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী,নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভয়ঙ্কর অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন রাজধানীর এক সফটওয়্যার ব্যবসায়ী। অভিযোগে বলা হয়েছে,ওয়েব ও সফটওয়্যার সল্যুশনের কাজ দেওয়ার প্রলোভনে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ী নূরুদ্দীন মুহাম্মদ আলী ও তার সহকর্মী কাজী রাসেল হোসাইনকে সংঘবদ্ধ চক্রটি অপহরণ করে নির্জন স্থানে আটকে রাখে।
পরে তাদের মারধর করে নগদ টাকা,মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বিকাশ,নগদ ও ব্যাংক এটিএমের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে। একটি তরুণী সামাজিক পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রের অন্য সদস্যরা তাকে আটক করে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করে। এ সময় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে নারী সদস্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়,দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিতে সংঘবদ্ধ কিছু প্রতারক চক্র ‘হানি ট্র্যাপ’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের অভিনয়,পরে গোপন স্থানে ডেকে এনে জিম্মি করে অর্থ আদায়—এটাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে,
বাড়িওলা আব্দুল কুদ্দুস মারা যাওয়ার পর তার মেয়ের জামাই আবুল হোসেন এই বাড়ির দেখা শুনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই ঘটনায় আবুল হোসেন এর যোগ সাজস থাকতে পারে বলে এলাকা বাসির ধারণা।এই প্রতারণা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের টার্গেট করে এমন অপরাধ বাড়লেও অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মানের ভয়ে মুখ খুলছেন না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ,চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা,তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।