বিশেষ প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে,দালালমুক্ত দাবি করেছিলেন অফিসটির পরিচালক মোঃ শামীম। অথচ বাস্তবতা যেন উল্টো চিত্রই তুলে ধরলো। সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে ওই অফিস এলাকা থেকে ৭ জন দালাল আটক হওয়ার ঘটনায় জনমনে এখন বড় প্রশ্ন?তাহলে এতদিন এই দালালরা কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছিল? তারা কি হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এসেছে,নাকি অফিসের ভেতরের কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেটের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল?
অভিযোগ রয়েছে,সাধারণ পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র অতিরিক্ত টাকা আদায়,ভুল তথ্য দিয়ে হয়রানি এবং দ্রুত সেবার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। অথচ অফিস কর্তৃপক্ষ বারবার দালালমুক্ত,অফিসের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এদিকে এর আগেও পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পরিচালক মোঃ শামীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদকর্মীদের অপমানজনকভাবে মুচলেকা দিতে বাধ্য করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রশ্ন উঠেছিল কেন সত্য প্রকাশের চেষ্টাকারীদের দমন করা হলো? আর আজ র্যাবের অভিযানে দালাল আটক হওয়ার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি,শুধু কয়েকজন দালাল আটক করলেই দায় শেষ নয়। এই দালাল চক্রের পেছনে কারা রয়েছে, কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ছত্রছায়ায় তারা এতদিন সক্রিয় ছিল—তা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো,অভিযোগ বক্স চালু,দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দালাল সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই—যে অফিস নিজেকে দালালমুক্ত,বলে দাবি করে,সেখানে র্যাবের অভিযানে একসাথে ৭ দালাল আটক হয় কীভাবে? এর দায় কি শুধু দালালদের,নাকি প্রশাসনের ব্যর্থতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে?