নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর পূর্বাচলে তিন দিনব্যাপী ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো ২০২৬ শুরু হয়েছে। ওষুধশিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও উদ্ভাবন তুলে ধরতে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংকট কাটাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।২০টির বেশি দেশের ৪০০+ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ২০টির বেশি দেশের চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হচ্ছে,ফার্মাসিউটিক্যাল প্রসেসিং ও প্যাকেজিং প্রযুক্তি,এপিআই (Active Pharmaceutical Ingredient) ও এক্সিপিয়েন্টস,ল্যাবরেটরি ও অ্যানালিটিক্যাল যন্ত্রপাতি,ক্লিনরুম ও HVAC সিস্টেম,পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি,টার্নকি প্রজেক্ট সল্যুশন,একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়া ল্যাব এক্সপো।পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে নতুন প্রযুক্তি,ভারতের প্রতিষ্ঠান বিলকেয়ার রিসার্চ প্রদর্শনীতে এনেছে পিভিসিমুক্ত পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং প্রযুক্তি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি,এই প্যাকেজিং পুনর্ব্যবহারযোগ্য নকল ওষুধ প্রতিরোধে কার্যকর।নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা বেশি।যদিও খরচ কিছুটা বেশি,তবুও এটি ভবিষ্যতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।দেশীয় উৎপাদনে খরচ কমছে ৩০-৪০%
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও এবার শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে।
সুইস বায়োহাইজেনিক ইকুইপমেন্ট জানায়,তারা স্থানীয় প্রযুক্তিতে হাইজেনিক যন্ত্র তৈরি করছে।আমদানির তুলনায় ৩০-৪০% কম খরচে সরবরাহ সম্ভব।এতে দেশের ওষুধশিল্পে স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকায় গড়ে ওঠে একটি ফার্মা কারখানা।প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়,একটি পূর্ণাঙ্গ ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে খরচ হয় প্রায় ৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা।
টার্নকি প্রজেক্টের মাধ্যমে,ডিজাইন থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হয়,অধিকাংশ যন্ত্রাংশ এখনো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়,৩৫টি কোম্পানি দেউলিয়া
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন,শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মধ্যে ৩৫টি দেউলিয়া
আরও ৩০টি সংগ্রামে,মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান স্থিতিশীল
তিনি বলেন,ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বড় কোম্পানির সহায়তা ও সরকারের নীতি সহায়তা জরুরি।
শিল্পখাতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী।
ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল তৈরির মেশিন,ব্লেন্ডার, গ্র্যানুলেটর, কোটিং মেশিন,ফিলিং ও প্যাকেজিং সিস্টেম,ETP ও STP (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রযুক্তি,সুরক্ষাসামগ্রী ও শিল্প নিরাপত্তা পণ্য।

দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এশিয়া ফার্মা এক্সপো ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী কঠোর বার্তা এই খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকেও বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।