নিজস্ব প্রতিনিধি:
অপরিকল্পিত নগরায়ন,দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং আবাসন খাতে নৈরাজ্যে চাপে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগর ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকরা বলছেন,প্রকল্প সমন্বয় ও মনিটরিং দুর্বল হওয়ায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প থেকেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন,বিভিন্ন সংস্থার প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় খাল খনন,ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়ন একে অন্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ছে।
আবাসন খাতেও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে ৬–৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগায় অনেকেই নিয়ম বহির্ভূত পথে নির্মাণকাজ শুরু করছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অননুমোদিত বসতি বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে,অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও ম্যানুয়াল ফাইল সিস্টেম দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করছে। কোথায় ফাইল আটকে আছে—এ বিষয়ে কোনো উন্মুক্ত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নেই।
নগর গবেষকরা জোর দিচ্ছেন ডিজিটাল প্ল্যান অনুমোদন, অনলাইন প্রকল্প ট্র্যাকিং,নাগরিক অভিযোগ সেল এবং তৃতীয় পক্ষের অডিট চালুর ওপর। তাদের মতে,প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা ছাড়া নগর উন্নয়ন টেকসই হবে না।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—এখনই কার্যকর সংস্কার না হলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।