স্টাফ রিপোর্টার,নারায়ণগঞ্জ:
ভোট গ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মাদ শাহ আলমকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোট গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পর শাহ আলম কেন্দ্রে প্রবেশ করলে উপস্থিত বিএনপি সমর্থকরা আপত্তি জানিয়ে তাকে কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থানকালে ঘিরে রাখে।
খবর পেয়ে র্যাব,পুলিশ ও বিজিবির টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা হয়। এতে বিএনপির অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন বিএনপি জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। আহতদের মধ্যে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে কেন্দ্র এলাকায় ছুটে যান মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি সেনাবাহিনীর ফতুল্লা ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর আফসানের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি তল্লাশির অনুরোধ জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গাড়ি তল্লাশি করে অবৈধ কোনো কিছু পায়নি বলে জানা গেছে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শাহ আলমকে কেন্দ্র এলাকা থেকে বের হতে দেওয়া হয়।

মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন,ভোট শেষ হওয়ার পর একজন প্রার্থী লোকজন নিয়ে ব্যাগসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন, যা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি ভোট গণনায় প্রভাব ফেলতেই ঢুকেছিলেন বলে আমাদের সন্দেহ। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে ফতুল্লা সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর আফসান বলেন,ভোট গ্রহণ শেষে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ঘটনার পর পুরো ইসদাইর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।