বিশেষ প্রতিনিধি।
শিল্পকারখানা অধ্যুষিত গাজীপুর-১ সংসদীয় আসনে প্রায় তিন লাখের বেশি শ্রমিক ভোটারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী সমীকরণ। মোট ভোটারের প্রায় ৪৩ শতাংশই বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিক। নির্বাচন উপলক্ষে টানা কয়েক দিনের ছুটি থাকায় তাদের বড় একটি অংশ গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা করছেন প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী,কালিয়াকৈর-কাশিমপুর, কোনাবাড়ী ও বাসন থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ১৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার শ্রমিক ভোটার,যারা মূলত পোশাক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানায় কর্মরত।
রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা জানান, দীর্ঘ ছুটি পেলে অনেক শ্রমিকই কর্মস্থল ছেড়ে নিজ এলাকায় চলে যান। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিতি কম হলে ফলাফলে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে কারখানা এলাকায় প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছেন। শ্রমিকদের ভোট দিয়ে তারপর গ্রামের বাড়ি যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, শ্রমিক ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,তারা স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ সড়ক, মাদকমুক্ত পরিবেশ, নিয়মিত বেতন-বোনাস এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রার্থী বাছাই করতে চান। আবার কিছু শ্রমিকের অভিযোগ, তারা ভোটার হলেও আগে কখনও ভোট দিতে যাননি বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ পাননি।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও বলছেন, গাজীপুর-১ আসনের ফল নির্ধারণে ভাসমান শ্রমিক ভোটাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ছুটির কারণে যদি বড় অংশ অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। শিল্পাঞ্চল ঘিরে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, শ্রমিক ভোটারদের উপস্থিতিই এ আসনের জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।