স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দাবি পরিশোধে বৈষম্যের অভিযোগ,আস্থার সংকটে বীমা খাত।
ক্যানসার চিকিৎসার জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ জীবন বীমা পলিসির টাকা পেতে এক বছরের বেশি সময় ধরে ঘুরছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মো.মোর্শেদ আলম। অথচ একই সময়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড একজন প্রভাবশালী পলিসিধারীকে প্রায় ২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে—যা নিয়ে বীমা খাতে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে,দাবি পরিশোধে এমন বৈষম্য সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
প্রভাবশালী গ্রাহকের হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন
কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মোহাম্মদ হেলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ২৫০ টাকা স্থানান্তর করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ।
পলিসি নম্বর: ৩৪০০০০৩৬৭৬
ব্যাচ নম্বর: PHSD-MT-20250227-006
লট নম্বর: MT-100-20250226-04
সূত্রের দাবি,তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
ক্যানসার আক্রান্ত গ্রাহকের টাকা আটকে
অন্যদিকে,সাধারণ গ্রাহক মো.মোর্শেদ আলমের পলিসির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর।পলিসি নম্বর ১১০০০০৫৯০২-৩,মোট পাওনা ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৭৫ টাকা।
তিনি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি পরিশোধের আবেদন করেন। কিন্তু এক বছর পার হলেও এখনো কোনো অর্থ পাননি।
মোর্শেদ আলম বলেন,গত এক বছর ধরে অফিসে ঘুরছি। সব কাগজ দিয়েছি। চিকিৎসায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন টাকার অভাবে ঠিকমতো কেমোথেরাপিও করাতে পারছি না।
তিনি আবেদনের সঙ্গে এভারকেয়ার হাসপাতালের অপারেশন-পরবর্তী ছাড়পত্র,হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট ও ডেল্টা হাসপাতালের কেমোথেরাপির কাগজপত্র জমা দেন।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্র জানায়,বীমা আইন অনুযায়ী পলিসির মেয়াদপূর্তির সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে দাবি পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
কিন্তু বাস্তবে অনেক গ্রাহক মাসের পর মাস,এমনকি বছরের পর বছর টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে
কোম্পানির বক্তব্য নেই।
এ বিষয়ে জানতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো.আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্নেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
কোম্পানির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।