ঢাকা | বিশেষ প্রতিবেদন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ সমাজের সাহসী কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে রাজধানী ঢাকায় এক হৃদয়বিদারক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল প্রমাণ করে—শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন কেবল একজন সংগঠক নন, বরং সময়ের প্রতিবাদী এক প্রতীক।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে কান্না, শোক আর নীরবতায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। অসংখ্য মানুষ চোখের জলে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান।
জানাজা শেষে শাহজাদপুর সুভাস্তু নজর ভেলী শপিং মলের সামনে মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন মেহেদি হাসান বাপ্পি—সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক,১৮নং ওয়ার্ড বিএনপি,মনির হোসেন—সাধারণ সম্পাদক,সুভাস্তু নজর ভেলী শপিং মল,নাদিম হোসেন রনি—যুবদল নেতা,গুলশান থানা যুবদল। এছাড়াও গুলশান থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, নির্ভীক ও আদর্শবাদী একজন সংগঠক। তাঁর কণ্ঠ ছিল নিপীড়িত মানুষের পক্ষে, তাঁর অবস্থান ছিল সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে অটল। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়,বরং একটি আন্দোলন ও আদর্শের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকাহত নেতাকর্মীরা জানান,শরিফ ওসমান হাদির দেখানো পথ ও আদর্শকে ধারণ করেই আগামীর আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে। তাঁর স্মৃতি ও সংগ্রাম প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই জানাজা প্রমাণ করে—শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন সময়ের একজন জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য ও সাহসী কণ্ঠস্বর, যার প্রস্থান রাজনীতির আকাশে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।