স্টাফ রিপোর্টার।
গাজীপুরের শ্রীপুরে আবারও স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে লাইসেন্সবিহীন আল-রাজি হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর শর্তে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম-নীতি মানতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হবে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় সহকারী কমিশনার(ভূমি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল।
অবৈধ হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র,ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়,আল-রাজি হাসপাতালটিতে,কোনো লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছিল না,পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছিল না,
হালনাগাদ কাগজপত্র ছিল না,প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্সের সংকট ছিল মারাত্মক মাত্রায়,এমনকি ডেলিভারি বা অপারেশন পরিচালনার অনুমতিও ছিল না।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
চিকিৎসক ছাড়াই ডেলিভারি করাতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু। — অভিযোগ বাবার
মরদেহ হাতে নিয়ে ভেঙে পড়া নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম শনিবার রাতেই শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান,সিজারের জন্য অগ্রিম চুক্তি থাকলেও পরিবারের অজান্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্স ও স্টাফদের দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রসূতিকে ডেলিভারি কক্ষের বাইরে অপেক্ষায় রাখা হয়। অবশেষে অবহেলা ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে মৃত সন্তান জন্ম নেয়, যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন—
একটি হাসপাতালের নামে যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। এখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। নার্সদেরও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান—
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুচলেকা দিয়ে দুই মাস সময় নিয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম মেনে বৈধতা না নিতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হবে এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাজুড়ে ক্ষোভ,কঠোর নজরদারির দাবি,ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অবৈধ হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবার নামে বাণিজ্য আর অবহেলার কারণে আর কত প্রাণ যেতে হবে—এমন প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মুখে।