গাজীপুরের শ্রীপুরে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নার্স দিয়ে প্রসূতির ডেলিভারি করানোর সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আল রাজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলে রোববার (৭ ডিসেম্বর) নবজাতকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মৃত নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন,শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী শারমিনকে আল রাজি হাসপাতালে ভর্তি করি।সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ১৩ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করতে থাকে। নার্স কল্পনা আক্তারের মাধ্যমে ডেলিভারির সময়ই আমার সন্তানের মৃত্যু হয়।
মা শারমিন আক্তার জানান,ভর্তি হওয়ার পর কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করতে না পেরে বারবার চিকিৎসকের খোঁজ করি। পরে নার্সেরা জরায়ুর মুখ কেটে মৃত নবজাতক বের করে।
নার্স কল্পনা আক্তার বলেন,আমি কয়েক বছর অপারেশন থিয়েটারে কাজ করেছি।রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে ডেলিভারি করাই। নবজাতক কান্না না করলে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়, তিনি বলেন শিশুটি মৃত।
হাসপাতালের ম্যানেজার রাসেল মিয়া জানান,
হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিল না। তাই নার্স কল্পনাকে রোগী ভর্তি না করতে বলেছিলাম। আমাকে না জানিয়েই রোগী ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন,অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে বেশিরভাগ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের মৃত্যু বেড়েই চলছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,ঘটনার বিষয়ে সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান,হাসপাতালের লাইসেন্স আছে কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেন,
“নবজাতকের বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে হাসপাতাল পরিদর্শনে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম জানান,
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রশাসনও স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে। লাইসেন্সসহ সব নথি যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন,
ঘটনাটি তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে সিভিল সার্জন অফিস থেকেও আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন,অনেক সময় ভুক্তভোগী পরিবার পরে আপস করে, যার ফলে তদন্ত প্রতিবেদন কার্যকর হয় না। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।