নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বাসযাত্রী কিশোরীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি আল-আমিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
১।বাংলাদেশ আমার অহংকার'এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ দমন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যাসহ বিভিন্ন আলোচিত অপরাধে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
২। গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ঘটে যাওয়া বাসযাত্রী এক কিশোরীকে আটক রেখে গণধর্ষণের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওইদিন কিশোরী সোনারগাঁ থেকে ঢাকার গেণ্ডারিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসে উঠলে বাসের হেলপার রানা (৩২) কথার ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। কিশোরী যাত্রাবাড়ীতে নামতে চাইলে তাকে প্রতারণা করে গাড়ি ঘুরিয়ে মদনপুর এলাকায় নিয়ে যায়। পরে রানা ও তার সহযোগী আল-আমিন (২৮) কিশোরীকে বন্দরের ধামগড় ইউনিয়নের চৌড়ারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত আল-আমিনের বাড়িতে আটকে রাখে। রাতেই তাদের সঙ্গে আরও একজন যোগ দেয়।
২২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ০১:০০ থেকে ০২:০০টার মধ্যে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে আসামিরা বাইরে গেলে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পালিয়ে স্থানীয় আজহারুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিশোরীর বাবা বন্দর থানায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
৩। মামলা রুজুর পর র্যাব-১১,সিপিএসসি কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ ভুক্তভোগীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১,সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জ এবং সিপিসি-২ কুমিল্লা এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ২১:০০ ঘটিকার সময় কুমিল্লার লাঙ্গলকোট বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মামলার এজাহারনামীয় ২ নং আসামি আল-আমিন (২৮),পিতা—আবু হানিফ,সাং—চেরার বাড়ি,ওয়ার্ড নং ০৭, ধামগড় ইউনিয়ন,বন্দর,নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৪। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।